মেনু নির্বাচন করুন

দর্শনীয় স্থান

অনুসন্ধান করুন

# শিরোনাম স্থান কিভাবে যাওয়া যায় যোগাযোগ
টাংগার হাওর ১নং শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের ভৌগলিক সীমানার মধে অবস্থিত । বর্ষা কালে নৌকায়, স্পিডবোট হেমন্ত কালে মটর সাইকেল, 0
টাংগুয়ার হাওড়

টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলার মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। মেঘালয় পাহাড় থেকে ৩০টিরও বেশি ঝরা (ঝরনা) এসে মিশেছে এই হাওরে। দুই উপজেলার ১৮টি মৌজায় ৫১টি হাওরের সমন্বয়ে ৯,৭২৭ হেক্টর এলাকা নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওর জেলার সবচেয়ে বড় জলাভূমি। পানিবহুল মূল হাওর ২৮ বর্গকিলোমিটার এবং বাকি অংশ বসতি ও কৃষিজমি। একসময় গাছ-মাছ-পাখি আর প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্যের আধার ছিল এই হাওর। ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে টাঙ্গুয়ার হাওরকে 'প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা' হিসেবে ঘোষণা করা হয়, তখনই অবসান হয় দীর্ঘ ৬০ বছরের ইজারাদারির। ২০০০ খ্রিষ্টাব্দে ২০ জানুয়ারি এই হাওরকে 'রামসার স্থান' (Ramsar site) হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আইসিইউএন এই হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করছে। হাওর এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন, সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ড সরকারের মধ্যে ২০০১ খ্রিষ্টাব্দে ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দের ৯ নভেম্বর থেকে হাওরের নিয়ন্ত্রণ নেয় জেলা প্রশাসন। সুইস অ্যাজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশন (এসডিসি) এবং আইসিইউএন ২০০৬ সালের ডিসেম্বর থেকে 'টাঙ্গুয়ার হাওর সমাজভিত্তিক টেকসই ব্যবস্থাপনা' প্রকল্প পরিচালনা করছে।[৩]

শীত মৌসুমে পানি শুকিয়ে কমে গেলে এখানকার প্রায় ২৪টি বিলের পাড় (স্থানীয় ভাষায় কান্দা) জেগে উঠলে শুধু কান্দার ভিতরের অংশেই আদি বিল থাকে, আর শুকিয়ে যাওয়া অংশে স্থানীয় কৃষকেরা রবিশস্য ও বোরো ধানের আবাদ করেন। এ সময় এলাকাটি গোচারণভূমি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। বর্ষায় থৈ থৈ পানিতে নিমগ্ন হাওরের জেগে থাকা উঁচু কান্দাগুলোতে আশ্রয় নেয় পরিযায়ী পাখিরা —রোদ পোহায়, জিরিয়ে নেয়। কান্দাগুলো এখন (২০১২) আর দেখা যায় না বলে স্থানীয় এনজিও ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় সেখানে পুঁতে দেয়া হয়েছে বাঁশ বা কাঠের ছোট ছোট বিশ্রাম-দণ্ড

টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলার মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। মেঘালয় পাহাড় থেকে ৩০টিরও বেশি ঝরা (ঝরনা) এসে মিশেছে এই হাওরে। দুই উপজেলার ১৮টি মৌজায় ৫১টি হাওরের সমন্বয়ে ৯,৭২৭ হেক্টর এলাকা নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওর জেলার সবচেয়ে বড় জলাভূমি। পানিবহুল মূল হাওর ২৮ বর্গকিলোমিটার এবং বাকি অংশ বসতি ও কৃষিজমি। একসময় গাছ-মাছ-পাখি আর প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্যের আধার ছিল এই হাওর। ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে টাঙ্গুয়ার হাওরকে 'প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা' হিসেবে ঘোষণা করা হয়, তখনই অবসান হয় দীর্ঘ ৬০ বছরের ইজারাদারির। ২০০০ খ্রিষ্টাব্দে ২০ জানুয়ারি এই হাওরকে 'রামসার স্থান' (Ramsar site) হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আইসিইউএন এই হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করছে। হাওর এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন, সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ড সরকারের মধ্যে ২০০১ খ্রিষ্টাব্দে ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দের ৯ নভেম্বর থেকে হাওরের নিয়ন্ত্রণ নেয় জেলা প্রশাসন। সুইস অ্যাজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশন (এসডিসি) এবং আইসিইউএন ২০০৬ সালের ডিসেম্বর থেকে 'টাঙ্গুয়ার হাওর সমাজভিত্তিক টেকসই ব্যবস্থাপনা' প্রকল্প পরিচালনা করছে।[৩]

শীত মৌসুমে পানি শুকিয়ে কমে গেলে এখানকার প্রায় ২৪টি বিলের পাড় (স্থানীয় ভাষায় কান্দা) জেগে উঠলে শুধু কান্দার ভিতরের অংশেই আদি বিল থাকে, আর শুকিয়ে যাওয়া অংশে স্থানীয় কৃষকেরা রবিশস্য ও বোরো ধানের আবাদ করেন। এ সময় এলাকাটি গোচারণভূমি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। বর্ষায় থৈ থৈ পানিতে নিমগ্ন হাওরের জেগে থাকা উঁচু কান্দাগুলোতে আশ্রয় নেয় পরিযায়ী পাখিরা —রোদ পোহায়, জিরিয়ে নেয়। কান্দাগুলো এখন (২০১২) আর দেখা যায় না বলে স্থানীয় এনজিও ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় সেখানে পুঁতে দেয়া হয়েছে বাঁশ বা কাঠের ছোট ছোট বিশ্রাম-দণ্ড

টাঙ্গুয়ার হাওর বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত একটি হাওর। প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এ হাওর বাংলাদেশর দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি । স্থানীয় লোকজনের কাছে হাওরটি নয়কুড়ি কান্দার ছয়কুড়ি বিল নামেও পরিচিত। এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার স্থান

নীলাদ্রি

সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা সীমান্তে শহীদ ‘সিরাজ লেক’কে ‘নীলাদ্রী ডিসি পার্ক’ নামকরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় জনসাধারণ ও মুক্তিযোদ্ধারা।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে মেঘালয় পাহাড়ঘেঁষা তাহিরপুর উপজেলায় উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের ট্যাকেরঘাটে এ দৃষ্টিনন্দন লেকটির অবস্থান। শুক্রবার বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এর অর্থায়নে ‘নীলাদ্রি ডিসি পার্ক’ নামে এর উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক সাবিরুল ইসলাাম।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুক সহ বিভিন্ন মাধ্যমে জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ে নামকরণ নিয়ে দেখা যায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এনিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্টজনরা।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ, লেকটির সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতি জড়িত। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে এ লেকটির নামকরণ করা হয়েছে একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামে। এতদিন গুটি কয়েক পর্যটক লেকটির নাম নীলাদ্রী দিলেও এবার খোদ প্রশাসন লেকটির নাম নীলাদ্রী ডিসি পার্ক নামকরণ করে তাহিরপুরে ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছে। লেকটি ২০১৩ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে লেকটি কখনো বাংলার কাশ্মীর, কখনো নিলাদ্রী, কখনো সীমান্ত লেক, কখনো পরিতাক্ত চুনাপাথর কোয়ারী নামে পরিচয় পায় শুধুমাত্র পর্যটকদের কাছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড তাহিরপুর উপজেলার একাধিক স্থানে পর্যটন কেন্দ্র তৈরী করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ট্যাকেরঘাট খনিজ প্রকল্প এলাকায় লেকটির ভাইরাল নাম ‘নীলাদ্রী’র সাথে মিল রেখে ‘নীলাদ্রী ডিসি পার্ক’ নামকরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড।

আনুষ্ঠানিক ভাবে নীলাদ্রী ডিসি পার্ক নামকরণের পর থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে দেখা দেয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সাদেক আলী নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, লেকটির নামকরণ করা হয়েছিল একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামে ‘শহীদ সিরাজ লেক’। স্থানীয় কৃষ্টি,সংস্কৃতির সাথে মিল রেখে লেকটির নামকরণ করা হলে তাহিরপুরের ঐতিহ্য বহন করতো। বর্তমানে এই কাল্পনিক নীলাদ্রি নামটি বড় বেমানান। নিজস্ব স্বকীয়তাও ইতিহাস ঠিক রেখে এই লেকটির নাম নামকরণ করা হলে তাহিরপুর তথা সুনামগঞ্জের সুনাম আরো বাড়বে তাহিরপুর উপজেলাও আরো পরিচিতি পাবে।

তাহিরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রফিকুল ইসলাম বলেন, এ লেকটির সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক স্মৃতি বিজড়িত। একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামে ট্যাকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্পের লেকটির নামকরণ করা হয়েছিল শহীদ সিরাজ লেক। আমরা চাই পার্কটিও শহীদ সিরাজের নামেই হোক।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, তাহিরপুরের ইতিহাস ঐতিহ্য অনেক প্রাচীন ও সমৃদ্ধ। আমরা চাই তাহিরপুরের ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে সঙ্গতি রেখে এই পার্কটির নামকরণ করা হোক।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাবিরুল ইসলাম বলেন, এর আগে এই লেকটির নামকরণের বিষয়ে আমার জানা ছিলনা। উদ্বোধনের সময় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলাকার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। কেউ আমাকে এই বিষয়টি জানান নি যে এটি স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামে নামকরণ করা হয়েছিল। আমরা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দিতে চাই সে চিন্তা থেকেই খনিজ প্রকল্পের পুরো এলাকাটাকে ‘সিরাজ ভ্যালি’ নামে নামকরণ করে দেব।

সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা সীমান্তে শহীদ ‘সিরাজ লেক’কে ‘নীলাদ্রী ডিসি পার্ক’ নামকরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় জনসাধারণ ও মুক্তিযোদ্ধারা।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে মেঘালয় পাহাড়ঘেঁষা তাহিরপুর উপজেলায় উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের ট্যাকেরঘাটে এ দৃষ্টিনন্দন লেকটির অবস্থান। শুক্রবার বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এর অর্থায়নে ‘নীলাদ্রি ডিসি পার্ক’ নামে এর উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক সাবিরুল ইসলাাম।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুক সহ বিভিন্ন মাধ্যমে জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ে নামকরণ নিয়ে দেখা যায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এনিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্টজনরা।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ, লেকটির সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতি জড়িত। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে এ লেকটির নামকরণ করা হয়েছে একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামে। এতদিন গুটি কয়েক পর্যটক লেকটির নাম নীলাদ্রী দিলেও এবার খোদ প্রশাসন লেকটির নাম নীলাদ্রী ডিসি পার্ক নামকরণ করে তাহিরপুরে ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছে। লেকটি ২০১৩ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে লেকটি কখনো বাংলার কাশ্মীর, কখনো নিলাদ্রী, কখনো সীমান্ত লেক, কখনো পরিতাক্ত চুনাপাথর কোয়ারী নামে পরিচয় পায় শুধুমাত্র পর্যটকদের কাছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড তাহিরপুর উপজেলার একাধিক স্থানে পর্যটন কেন্দ্র তৈরী করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ট্যাকেরঘাট খনিজ প্রকল্প এলাকায় লেকটির ভাইরাল নাম ‘নীলাদ্রী’র সাথে মিল রেখে ‘নীলাদ্রী ডিসি পার্ক’ নামকরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড।

আনুষ্ঠানিক ভাবে নীলাদ্রী ডিসি পার্ক নামকরণের পর থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে দেখা দেয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সাদেক আলী নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, লেকটির নামকরণ করা হয়েছিল একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামে ‘শহীদ সিরাজ লেক’। স্থানীয় কৃষ্টি,সংস্কৃতির সাথে মিল রেখে লেকটির নামকরণ করা হলে তাহিরপুরের ঐতিহ্য বহন করতো। বর্তমানে এই কাল্পনিক নীলাদ্রি নামটি বড় বেমানান। নিজস্ব স্বকীয়তাও ইতিহাস ঠিক রেখে এই লেকটির নাম নামকরণ করা হলে তাহিরপুর তথা সুনামগঞ্জের সুনাম আরো বাড়বে তাহিরপুর উপজেলাও আরো পরিচিতি পাবে।

তাহিরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রফিকুল ইসলাম বলেন, এ লেকটির সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক স্মৃতি বিজড়িত। একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামে ট্যাকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্পের লেকটির নামকরণ করা হয়েছিল শহীদ সিরাজ লেক। আমরা চাই পার্কটিও শহীদ সিরাজের নামেই হোক।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, তাহিরপুরের ইতিহাস ঐতিহ্য অনেক প্রাচীন ও সমৃদ্ধ। আমরা চাই তাহিরপুরের ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে সঙ্গতি রেখে এই পার্কটির নামকরণ করা হোক।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাবিরুল ইসলাম বলেন, এর আগে এই লেকটির নামকরণের বিষয়ে আমার জানা ছিলনা। উদ্বোধনের সময় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলাকার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। কেউ আমাকে এই বিষয়টি জানান নি যে এটি স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামে নামকরণ করা হয়েছিল। আমরা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দিতে চাই সে চিন্তা থেকেই খনিজ প্রকল্পের পুরো এলাকাটাকে ‘সিরাজ ভ্যালি’ নামে নামকরণ করে দেব।

সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা সীমান্তে শহীদ ‘সিরাজ লেক’কে ‘নীলাদ্রী ডিসি পার্ক’ নামকরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় জনসাধারণ ও মুক্তিযোদ্ধারা।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে মেঘালয় পাহাড়ঘেঁষা তাহিরপুর উপজেলায় উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের ট্যাকেরঘাটে এ দৃষ্টিনন্দন লেকটির অবস্থান। শুক্রবার বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এর অর্থায়নে ‘নীলাদ্রি ডিসি পার্ক’ নামে এর উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক সাবিরুল ইসলাাম।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুক সহ বিভিন্ন মাধ্যমে জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ে নামকরণ নিয়ে দেখা যায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এনিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্টজনরা।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ, লেকটির সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতি জড়িত। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে এ লেকটির নামকরণ করা হয়েছে একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামে। এতদিন গুটি কয়েক পর্যটক লেকটির নাম নীলাদ্রী দিলেও এবার খোদ প্রশাসন লেকটির নাম নীলাদ্রী ডিসি পার্ক নামকরণ করে তাহিরপুরে ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছে। লেকটি ২০১৩ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে লেকটি কখনো বাংলার কাশ্মীর, কখনো নিলাদ্রী, কখনো সীমান্ত লেক, কখনো পরিতাক্ত চুনাপাথর কোয়ারী নামে পরিচয় পায় শুধুমাত্র পর্যটকদের কাছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড তাহিরপুর উপজেলার একাধিক স্থানে পর্যটন কেন্দ্র তৈরী করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ট্যাকেরঘাট খনিজ প্রকল্প এলাকায় লেকটির ভাইরাল নাম ‘নীলাদ্রী’র সাথে মিল রেখে ‘নীলাদ্রী ডিসি পার্ক’ নামকরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড।

আনুষ্ঠানিক ভাবে নীলাদ্রী ডিসি পার্ক নামকরণের পর থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে দেখা দেয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সাদেক আলী নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, লেকটির নামকরণ করা হয়েছিল একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামে ‘শহীদ সিরাজ লেক’। স্থানীয় কৃষ্টি,সংস্কৃতির সাথে মিল রেখে লেকটির নামকরণ করা হলে তাহিরপুরের ঐতিহ্য বহন করতো। বর্তমানে এই কাল্পনিক নীলাদ্রি নামটি বড় বেমানান। নিজস্ব স্বকীয়তাও ইতিহাস ঠিক রেখে এই লেকটির নাম নামকরণ করা হলে তাহিরপুর তথা সুনামগঞ্জের সুনাম আরো বাড়বে তাহিরপুর উপজেলাও আরো পরিচিতি পাবে।

তাহিরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রফিকুল ইসলাম বলেন, এ লেকটির সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক স্মৃতি বিজড়িত। একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামে ট্যাকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্পের লেকটির নামকরণ করা হয়েছিল শহীদ সিরাজ লেক। আমরা চাই পার্কটিও শহীদ সিরাজের নামেই হোক।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, তাহিরপুরের ইতিহাস ঐতিহ্য অনেক প্রাচীন ও সমৃদ্ধ। আমরা চাই তাহিরপুরের ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে সঙ্গতি রেখে এই পার্কটির নামকরণ করা হোক।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাবিরুল ইসলাম বলেন, এর আগে এই লেকটির নামকরণের বিষয়ে আমার জানা ছিলনা। উদ্বোধনের সময় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলাকার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। কেউ আমাকে এই বিষয়টি জানান নি যে এটি স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামে নামকরণ করা হয়েছিল। আমরা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দিতে চাই সে চিন্তা থেকেই খনিজ প্রকল্পের পুরো এলাকাটাকে ‘সিরাজ ভ্যালি’ নামে নামকরণ করে দেব।

লাকমা ছড়া

কেউবা বলেন হাওরের রাজধানী। রূপের রানিও বলেন কেউ কেউ। কবিরা বলেন জোছনার শহর। হাওর-বাঁওড় আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা নিজের মতো করে তুলে ধরতে সুনামগঞ্জের সুনাম এভাবেই লোকমুখে প্রচারিত হয়েছে। বর্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রকৃতিতে তখন তৃতীয় ঋতু শরৎ এক অপূর্ব শোভা ধারণ করে আবির্ভূত হয়েছে মাত্র। শরতেও পিছু ছাড়েনি বিদায়ী বর্ষার বৃষ্টি। তখনই একদিন যাদুকাটা নদ, শিমুলবাগান, বারিকের টিলা, শহীদ সিরাজউদ্দিন লেক হয়ে টেকেরঘাটের লাকমাছড়া দর্শনে বেরোই।

বৃষ্টির বাগড়ায় সুনামগঞ্জ শহর থেকে মোটরবাইকে করে ছুটছি অজানা লাকমাছড়ার কোলে। লাকমাছড়াটি পড়েছে তাহিরপুর উপজেলায়। ইতিহাস বলে, প্রাচীন শ্রীহট্টের তিন ভাগে ছিল জয়‌ন্তিয়া, গৌড় আর লাউড় রাজ্য। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও আশপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত ছিল ‘লাউড় রাজ্য’। রাজার রাজ্য নেই, তবে চিহ্ন পুরো এলাকাজুড়ে বিদ্যমান।

কেউবা বলেন হাওরের রাজধানী। রূপের রানিও বলেন কেউ কেউ। কবিরা বলেন জোছনার শহর। হাওর-বাঁওড় আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা নিজের মতো করে তুলে ধরতে সুনামগঞ্জের সুনাম এভাবেই লোকমুখে প্রচারিত হয়েছে। বর্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রকৃতিতে তখন তৃতীয় ঋতু শরৎ এক অপূর্ব শোভা ধারণ করে আবির্ভূত হয়েছে মাত্র। শরতেও পিছু ছাড়েনি বিদায়ী বর্ষার বৃষ্টি। তখনই একদিন যাদুকাটা নদ, শিমুলবাগান, বারিকের টিলা, শহীদ সিরাজউদ্দিন লেক হয়ে টেকেরঘাটের লাকমাছড়া দর্শনে বেরোই।

বৃষ্টির বাগড়ায় সুনামগঞ্জ শহর থেকে মোটরবাইকে করে ছুটছি অজানা লাকমাছড়ার কোলে। লাকমাছড়াটি পড়েছে তাহিরপুর উপজেলায়। ইতিহাস বলে, প্রাচীন শ্রীহট্টের তিন ভাগে ছিল জয়‌ন্তিয়া, গৌড় আর লাউড় রাজ্য। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও আশপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত ছিল ‘লাউড় রাজ্য’। রাজার রাজ্য নেই, তবে চিহ্ন পুরো এলাকাজুড়ে বিদ্যমান।

কেউবা বলেন হাওরের রাজধানী। রূপের রানিও বলেন কেউ কেউ। কবিরা বলেন জোছনার শহর। হাওর-বাঁওড় আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা নিজের মতো করে তুলে ধরতে সুনামগঞ্জের সুনাম এভাবেই লোকমুখে প্রচারিত হয়েছে। বর্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রকৃতিতে তখন তৃতীয় ঋতু শরৎ এক অপূর্ব শোভা ধারণ করে আবির্ভূত হয়েছে মাত্র। শরতেও পিছু ছাড়েনি বিদায়ী বর্ষার বৃষ্টি। তখনই একদিন যাদুকাটা নদ, শিমুলবাগান, বারিকের টিলা, শহীদ সিরাজউদ্দিন লেক হয়ে টেকেরঘাটের লাকমাছড়া দর্শনে বেরোই।

বৃষ্টির বাগড়ায় সুনামগঞ্জ শহর থেকে মোটরবাইকে করে ছুটছি অজানা লাকমাছড়ার কোলে। লাকমাছড়াটি পড়েছে তাহিরপুর উপজেলায়। ইতিহাস বলে, প্রাচীন শ্রীহট্টের তিন ভাগে ছিল জয়‌ন্তিয়া, গৌড় আর লাউড় রাজ্য। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও আশপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত ছিল ‘লাউড় রাজ্য’। রাজার রাজ্য নেই, তবে চিহ্ন পুরো এলাকাজুড়ে বিদ্যমান।